কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশটির একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি পানিশোধনাগারের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে এক ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলা ইরানি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে এবং ভবনটিতে উল্লেখযোগ্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে কুয়েত দ্রুত টেকনিক্যাল ও জরুরি সাড়া কর্মী ঘটনাস্থলে পাঠায়। তারা কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু রাখা ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
আল জাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে পানিশোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উপস্থিত প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছে। কুয়েতে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবির্ভাব এবং হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্কতা জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় কুয়েতের আকাশে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়; এসবের মধ্যে কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক শিবিরে আঘাত করলে সেখানে ১০ জন সামরিক কর্মী আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
এলাকায় সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিকটবর্তি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা নানা অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছে। আলাদা আলাদা রিপোর্টে ইরানে মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে বিভিন্ন সংখ্যাগণনা করা হয়েছে; এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কুয়েতে সাম্প্রতিক ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষায় সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছে এবং জরুরি কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা emphasised হচ্ছে।

