আল-আকসা সহ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র উপাসনালয়গুলোতে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম দেশগুলো—সৌদি আরব, তুরস্কসহ মোট আটটি মুসলিম দেশ—তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই পরিস্থিতির নিন্দা প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, পূর্ব জেরুজালেমে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ে ইসরায়েলের প্রয়োগ করা নিষেধাজ্ঞা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই অবস্থানের বিস্তারিত নিশ্চিত করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বিশেষ করে তারা উল্লেখ করে, টানা ৩১ দিন ধরে মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রয়েছে আল আকসা মসজিদের গেটগুলো, যা সম্পূর্ণভাবে অবিচার ও অমান্য। তারা জানায়, ১৪৪ একর বিস্তৃত এই পবিত্র স্থানটি শুধু মুসলমানদেরই ইবাদতের স্থান। এ বিষয়ে তারা জোর দিয়ে বলে থাকেন যে, জর্ডানের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘জেরুজালেম আওকাফ ও আল-আকসাবিষয়ক বিভাগ’ এই স্থানের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও ঐতিহাসিক চুক্তিসমূহের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই স্থানগুলোতে অবাধ প্রবেশাধিকার প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার, যা এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চার্চ—‘চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার’—এ প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে কঠোর সমালোচনা করা হয় বিবৃতিতে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায়, জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর প্রতি ইসরায়েলের চলমান অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে ও এর মর্যাদা রক্ষা করতে কঠোর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের।
সূত্র: ওয়াফা নিউজ এজেন্সি।

