যশোরে প্রথমবারের মতো এত বড় ধরনের কোনো হীরা চালান আটক করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। বৃহস্পতিবারযশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় পরিচালিত চৌকস অভিযানে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মূল্যমানের হীরা ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তির ছেলে।
বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব থেকে গোয়েন্দা খবর ছিল যে, একটি বড় হীরার চালান বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টিম মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে সুজাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। প্রথমে তার কাছ থেকে কিছুই পাওয়া না গেলেও, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন ওই হীরাগুলো ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে যশোরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১৫৫.৬৭ গ্রাম ওজনের ডায়মন্ড, বাংলাদেশি ৫৫৩০ টাকা, ভারতীয় ৫৮৮০ টাকা, ৫৫০ ইউএস ডলার, থাই বাথের ২০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি ঘড়ি উদ্ধার করা হয়। এসবের মোট বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা।
জানা গেছে, সুজাউদ্দিন এই ডায়মন্ডগুলো ভারতে পাচার করার জন্য ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পাসপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি পেশাদার চোরাচালান চক্রের একজন সদস্য। এর আগে তিনি বাংলাদেশসহ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সন্দেহজনক সফর করেছেন।
বুধবার বিকেলেই এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম জানান, উদ্ধার হওয়া হীরা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল সুজাউদ্দিনের। পরে তার পাসপোর্টের বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তিনি পেশাদার চোরাচালান চক্রের একজন সদস্য।
শুধুমাত্র এই ব্যক্তিকেই গ্রেফতার করা হয়নি, দেশের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চোরাচালান দমন আইনের কঠোর ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যশোর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ডায়মন্ড ও বৈদেশিক মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই হীরার চালানটিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তের কাজ শুরু করেছে, এই র্যাপারদের মূল নেপথ্য কারা, তা উদঘাটনে সতর্ক মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।