মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া ও পরে উত্তপ্ত বিতর্কের পর বাংলাদেশের ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। এই সম্পর্ক টানাটানিকে শিথিল করতে এবং দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবার পাঠিয়েছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইকে—বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছে বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র।
সূত্রটি জানায়, আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। এসব বিষয়কে মাথায় রেখে নতুন সরকারের অধীনে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বিসিবি কাজ করছে।
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের বাদ পড়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুন ধুমাল—এরকম মন্তব্যকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখছে বিসিবি। ধুমালের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে দুই বোর্ডের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এখচ্ছে বাড়ছে।
মোস্তাফিজের বাদ পড়ার পরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে বিসিবি ভারতের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল; তাতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ সাভাবিকভাবেই সফল হয়নি। সেই বিতর্কের পর ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে এবং দুই দেশের ক্রিকেট কূটনীতি জটিলতা তৈরি করে।
বিসিবি এখন কূটনৈতিকভাবে বিরোধ মোলান ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়। চিঠিতে পুরনো সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এবং ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের অনুরোধ জানানো হয়েছে—এমনটাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণ বিসিসিআই সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন করেছে।
এদিকে বিসিসিআই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির চিঠির জবাব দেয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে তাঁরা চিঠি পেয়েছেন, তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এ কথা মাথায় রেখে বিসিবি এখনও ভরসা রাখছে—সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভারতীয় দল আগামী আগস্টে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসতে পারে।
যদি ভারত বাংলাদেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আগামী বছরের এশিয়া কাপের আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাত বা শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে—এমন শঙ্কাও সূত্রগুলো তুলে ধরেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই বোর্ডের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপই ফের সম্পর্ক মেরামতের প্রধান পথ বলে মনে করা হচ্ছে।

