আফগানিস্তানে গত রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কম্পিত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকা, যার ফলে অন্তত ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের আট সদস্যও রয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারি এক কর্মকর্তা এবং আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যারা স্থানীয় সংবাদসংস্থা এএফপি’কে এ ঘোষণা দিয়েছেন। কাবুল থেকেই এই খবরে জানা গেছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৮টা ৪২ মিনিটে ৫.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে, এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার।
সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এই ভূমিকম্পে দুর্ভাগ্যবশত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, কাবুল, পানজশির, লোগার, নানগারহার, লাগমান ও নুরিস্তান প্রদেশে মোট পাঁচটি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, ও ৩৩টি বাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০টি পরিবার তাদের আশ্রয় হারিয়েছে।
এএফপি’র প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, এই কম্পনে রাজধানী কাবুলসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে শক্তিশালী ভূকম্পন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান বলেছেন, কাবুলের গোসফান্দ দারা এলাকায় একটি পরিবারের আট সদস্য এই ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিবারে শুধু একটি শিশু জীবিত রয়েছেন, যিনি আহতও হয়েছেন। দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আফগান রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র আবদুল কাদিম আবরার একই ব্যাপারে জানান, নিহত অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায়।
আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে, বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতশৃঙ্গের এলাকায়, যেখানে ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। এর আগে, গত আগস্টে পূর্ব আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার একটি গভীর ভূমিকম্পে অনেক গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ২,২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে নিয়ে ভাবা হয়।

