মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। গতকাল শুক্রবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই প্রস্তাবটি গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতায় তেহরানে পাঠানো হয়েছিল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই যুদ্ধবিরতির জন্য আবেদন করছে। কিন্তু তেহরান সেটি অস্বীকার করে বলেছে যে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো নতি স্বীকার করবে না। বরং এই প্রস্তাব থেকেই বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে, কেননা যুদ্ধের ময়দানে তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে না ইরান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত মধ্যস্থতা বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ভেস্তে গেছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিনদের অগ্রহণযোগ্য শর্তাবলি মানতে তারা রাজি নয়। এ কারণে তারা কোনো মার্কিন কর্মকর্তা বা দেশপ্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করবেন না। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর থেকে সেনা প্রত্যাহার; এবং এক মাসের মধ্যে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ।
তুরস্ক, মিসর এবং কাতার দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসলেও, এই পরিস্থিতিতে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাতার এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। মার্কিন ও আঞ্চলিক দেশগুলো কাতারকে চাপ দিলেও, কাতার এখনো কঠোর অবস্থানে থাকছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে সিএনএন জানিয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে যে, তারা ইরানের সক্ষমতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। গোয়েন্দা মূল্যায়ণ অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং কামিকাজে ড্রোনের প্রায় অর্ধেক এখনও অক্ষত এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
সামরিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য, ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এর অর্থ, যুদ্ধবিরতির এই প্রত্যাখ্যান এবং কঠোর অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, ইরান বর্তমানে মাঠের লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধ্বংসের হুমকির মুখেও এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

