বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক শক্তির দিক থেকে এক ইতিহাসের মোড় ঘোরানোর মতো ঘটনায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আসছে। পশ্চিমা দেশগুলির মূল শক্তির কেন্দ্র বলে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের ঘাঁটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই পরিবর্তনের সূচনাটা বুঝতে পারেনি বা ধারনা করেনি। এবার বিশ্ব দেখছে, ইরান ও উত্তর কোরিয়া একসঙ্গে কাজ করে অদ্ভুত এক সামরিক অঙ্গীকার ও চুক্তি করেছে যা গোয়েন্দা দুনিয়াকেও অবাক করে দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে, ইরান এখন উত্তর কোরিয়ার তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) হোয়াসং-১৮ এর মালিক बनিয়েছে। এটি বিশ্বের একমাত্র অস্ত্রযুদ্ধের হুমকি, যা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও শক্তির সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। এই মিসাইলের চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, কোনও রাডার, জিপিএস বা স্যাটেলাইটের সাহায্য ছাড়াই পরিচালিত হয় এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। বিশেষ করে, এটি সলিড ফুয়েলে চলে যা, যেকোনো সময় উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখে। এর নির্ভুলতা স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ১০০-১৫০ মিটার পর্যন্ত। এই তথ্য পাওয়ার মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে যায়। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, এই মিসাইলগুলো ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যাপারটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এর মাধ্যমে পরমাণু হামলার আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। ইরান এবার পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্বের ক্ষমতা কৌশলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। নজরদারি এতটাই ব্যর্থ হয় যে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ধারণাই এড়িয়ে গেছে অভিযুক্ত অস্ত্র বা হামলার পরিকল্পনা। এটি স্পষ্ট করে তোলে যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোপনীয়তার মাধ্যমে সামরিক শক্তির নতুন এক যুগ শুরু হয়েছে, যে যুগে যুদ্ধের ভূখণ্ড ও ক্ষমতার ভারসাম্য হেসে খেলে পাল্টে যাচ্ছে।
