বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্বুদ্ধকরণ ও সৃজনশীল ব্যবসা ধারণা ও স্টার্টআপ বিকাশে ব্যাংকসহ বিকল্প অর্থায়ন নিয়ে ‘ইউথ এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড স্টার্টআপ ফর স্টুডেন্টস’ শীর্ষক একটি কর্মশালা রোববার (৫ এপ্রিল) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়াধীন এসএমই ফাউন্ডেশন এই প্রোগ্রাম আয়োজন করে এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব এতে সহযোগিতা করেছে।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে 열린 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
উপাচার্য আরও বলেন, দেশে চাকরির সুযোগ সীমিত থাকায় শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জাতির কচ্ছপী প্রত্যাশা আছে — তারা যদি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন সম্ভব, তাই তরুণদের এ ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
খুবি প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই হাব-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সীড মানি দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম করা হচ্ছে। উপাচার্য বলেন, বাস্তবসম্মত আইডিয়া থাকলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়া সহজ; অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী। তাই যুগোপযোগী ধারণা তৈরি ও সফট স্কিল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রুকনুজ্জামান এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হাই। এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সালাম সরদার সভাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ক্যারিয়ার ক্লাবের তাসমিয়া ইসলাম তিশা ও ফাহিম খান।
উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা মন্তব্য করেন যে, তরুণদের সামনে এখন অসীম সম্ভাবনা খোলা আছে। শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হয়ে নিজে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা দেশকে গর্বিত করবে। উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতোমধ্যে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে; তাই নতুন প্রজন্মকে ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ছোট কোম্পানিগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মেন্টরশিপ, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পথ সহজ করা সম্ভব।
উদ্বোধনী পরবর্তী তিনটি প্লেনারি সেশনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্টার্টআপ গঠন, মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (খুলনা) থেকে মোটকরে প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

