সাতক্ষীরায় শিশুদের মধ্যে হাম রোগের সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, অসচেতনতা এবং সাধারণ জনসচেতনতার अभাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে। রোববার জেলায় তিনজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, বর্তমানে জেলায় ৩৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৫ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ জনের রিপোর্ট ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। রিপোর্টের মধ্যে ৩৩ জনের শরীরে হাম, একজনের শরীরে রুবেলা ধরা পড়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে শিশু রোগীদের ভিড় বাড়ছে। অভিভাবকরা বলছেন, তাদের শিশুদের প্রথমে জ্বর, শরীর ব্যথা ও শরীরে ফুসকুঁড়ি দেখা দেয়। সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন বলেন, তার মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বর্তমানে সে ফাউলপক্সে আক্রান্ত, বাড়িতে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলার সুব্রত জানান, তার ছেলেও হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সুস্থ হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, এখনও করোনার মতো হাম বা গুরুতর অসুস্থতার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক শিক্ষার্থীর বাড়িতেও ছোট ভাইবোনরা সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবীর জানান, জলবসন্ত বা হাম রোগের খবর জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে সৌন্দর্য্য ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ শামছুর রহমান বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো তীব্র জ্বর, কাশি ও চোখ লাল হওয়া। অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান (ইপিআই) কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার বা দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়ার কারণে রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে না। অপুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’-র অভাবও এই সংক্রমণের অন্যতম কারণ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ রিয়াদ হাসান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জটিল রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ও ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডাঃ জয়ন্ত সরকার জানান, শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাসে দুটি দফা টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক। তিনি অভিভাবকদের গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম জানান, জেলায় বর্তমানে ৩২৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৫ জন। এই জনবল সংকটের মধ্যেই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগ শনাক্ত ও সচেতনতা বৃদ্ধি করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।