জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন শুদ্ধভাবে হয়েছে কি না—এই বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। তদন্তকারী দল আজ এনএসসিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজেকে তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে হাজির করেননি।
তার নিজ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি অনুপস্থিত থাকার কারণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
১) বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান; এই প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয় স্বীয় এখতিয়ার ছাড়িয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
২) তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনে এমন ইঙ্গিত আছে যে সিদ্ধান্ত আগেভাগেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
৩) বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন; সেই অবস্থায় তদন্ত করে তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা আদালত অবমাননার পথে যাচ্ছেন।
৪) ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরবর্তী বোর্ডে পরিচালক পদের লোভ দেখিয়ে প্ররোচিত করছেন এবং না মানলে ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ করিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা চলছে—এ ধরনের অনীীত চাপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আসিফ আরও লিখেছেন যে তাঁকে যখন সাক্ষাৎকারের নোটিশ পাঠানো হয়, তখন বলা হয়েছিল বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর তারা তদন্ত চালাতে পারবে কি না—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব তিনি পাননি। উপর্যুক্ত কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে তিনি জানালেন, নিয়মবহির্ভূত কিংবা আদালত অবমাননার মতো কাজে অংশ নেবেন না, তাই কমিটির ডাকে সাড়া দেননি।
এনএসসি ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না খতিয়ে দেখা। তদন্ত কমিটির কাজের সময় ১৫ কার্যদিবস নির্ধারণ করা হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৬ অক্টোবর ঢাকার কয়েকটি ক্লাব সংগঠন বিসিবির নির্বাচন বর্জন করে; এর পর থেকেই দেশের ক্লাব ক্রিকেট থমকে আছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনো মাঠে শুরু না হওয়ায় ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

