২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্র“পের মালিকানাধীন। সোমবার সংসদে ওই তালিকা উত্থাপন হলেও ঋণের মোট পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্র“পের, সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্র“পের দু’টি এবং বিএনপি’র সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন সিটিসেলও রয়েছে। অর্থমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমানে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমপিদের থাকা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আদালতের নির্দেশনায় ৩৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা এখনো খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়নি। সংসদে বিএনপি’র হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান এবং শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নামও প্রকাশ করেন। এর মধ্যে প্রথম চারটিসহ মোট পাঁচটি এস আলমের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস, সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, চেমন ইস্পাত, এস আলম ট্রেডিং, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস, ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। অন্যদিকে, তালিকায় রয়েছে সালমান এফ রহমানের দুটি প্রতিষ্ঠান এবং সিকদার গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো’র দুইটি হলো বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি ও বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস। সিকদার গ্র“পের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট, জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট, ও সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি। এছাড়া মধ্যমে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল), কর্ণফুলি ফুডস, ও রংধনু বিল্ডার্স। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ত্রৈমাসিক আলোচনা, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঋণ রেকভারি জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আইনগত পদক্ষেপ, লিগ্যাল টিমের সশক্তিকরণ, এবং_target অনুযায়ী খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। এছাড়া, ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বিভিন্ন নীতিমালা হালনাগাদ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশে এখনো মোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা নিবৃত্ত করতে কাজ চলছে।

