প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার বিদ্যালয় ও কলেজে বিনামূল্যে Wi-Fi সংযোগ চালু করা হবে। এছাড়া, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। এই ঘোষণা তিনি আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ভিত্তিক টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নতুন কারিগরি কোর্সসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে, সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বিভাজন কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অনন্য ‘এডু-আইডি’ চালু করা হবে।
আইসিটি বিভাগ পরিচালিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস উন্নয়ন, পাইথন প্রোগ্রামিং ও AI-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাকে জাতির মূল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ জন্য ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন এবং চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের ঘোষণা দেন। এ ধরনের পরিকল্পনা সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য সকল উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব উপজেলা কেন্দ্রে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারি করতে ইতিবাচক চিন্তা চলছে।

