পিএসএল-এর অভিষেকের পর প্রথম ম্যাচে খরচের জন্য সমালোচিত হন নাহিদ রানা। তবে দ্রুতই তিনি বদলে যান এবং পরের ম্যাচে নিজের গতির ঝড় তুলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলামও তার নিখুঁত আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে দলের জন্য বিশাল সফলতা অর্জন করেন। যার ফলে তাদের দল করাচি কিংস বিশাল এক জয় তুলে নেয়।
করাচি কিংসের প্রতিপক্ষ ছিল পেশাওয়ার জালমি, এবং এই ম্যাচে জালমির জয় নিশ্চিত করতে তারা ২৪৬ রানের লক্ষ্য অর্জন করে। বল হাতে দুর্দান্ত কৌশলে একে একে বলিঙিং করতে থাকেন জালমির পেসাররা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়েন নাহিদ রানা, যিনি চার ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৭ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। তার ২৪ বলের মধ্যে ২০টিতে ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারেননি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ স্পিনার ইফতিখার আহমেদও তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শরিফুল ইসলামও দারুণ বোলিং করেন, তিন ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারকে আউট করেন।
শ্রীলঙ্কার কুসাল মেন্ডিস ম্যাচের সেরা ছিলেন। তিনি ৫২ বলে ১০৯ রান করে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেন চার চার ও চার ছক্কা সহ। অধিনায়ক বাবর আজমও ৫১ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং দেখা গেছে। প্রথম ওভারে ইফতিখার ওয়াসিমকে আউট করেন, এরপর শরিফুল ওয়্যার্নারকে ডেলিভারির মাধ্যমে ফেরত পাঠান। বোলাররা সঠিক সময়ে সঠিক ডেলিভারির মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের ধীর করে দেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কিছু দিন আগেই ওয়ার্নার দেশে ফিরে যান, এমনকি সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে এই ম্যাচে তিনি প্রথম বলে আউট হন।
শরিফুলের প্রথম ওভার ছিল ১১ রান, এরপর তিনি আরও দুটি বাউন্ডারির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন বোলিং চালিয়ে যান। হাফটাইমের পরে নাহিদ প্রথম উইকেটের দেখা পান, শর্ট বল পুল করার চেষ্টা করে সাদ বেগের তালুবন্দী হন। তার শেষ ওভারে তিনি কোনো রান না দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন।
বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকা কিংসের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। ১৪তম ওভারে নাহিদ আবারও বল হাতে নেওয়ার সময় কোনও রান দেননি। তিনি খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জ্যাম্পারকে আউট করেন এবং একমাত্র রান নিয়ে নিজের শেষ বলটি করেন।
প্রথম দিন পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অভিষেকের সময় ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন নাহিদ। শরিফুলের আগের দুই ম্যাচে উইকেট পাননি, তবে আজ তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে চেহারা বদলে যায়।

