জাতীয় দলের দুই ফাস্ট বোলার তানজিম হাসান সাকিব ও মোঃ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বৃহৎ পরিসরে হজ্জ এজেন্সি ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের আরএন রোডে ‘ফ্লাই রিহলার’ নামে এজেন্সির প্রধান কার্যালয় উদযাপন ও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এই দুই ক্রিকেটারের পাশাপাশি আরও একজন ফাস্ট বোলার এবাদাত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ককটেলে কার্যালয়টি দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন যশোরের দারুল আরকাম মাদ্রাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল মান্নান কাসেমী।
তানজিম হাসান সাকিব বলেন, হজ্জ ও ওমরা শুধু একটা ভ্রমণ নয়; মানুষের হৃদয়ে থাকা একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা। আল্লাহর ঘরে যাওয়ার স্বপ্ন যেন প্রতিটি মুসলিমের জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে আমার সামনে অনেক ব্যবসার অপশন ছিল, তবুও এই সেবামূলক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা শুধু বাণিজ্য নয়—এটি দাওয়াত এবং মানুষের স্বপ্ন পূরণের একটি দায়িত্ব। আমাদের মাধ্যমে কোনো মানুষের আল্লাহর ঘরে পৌঁছে দেওয়াটা সবচেয়ে বড় সাফল্য।
অন্য ফাস্ট বোলার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, অনেক হজ্জ এজেন্সির অনিয়ম, প্রতারণা, বাড়িভাড়া ও ভিসা জটিলতার কারণে প্রতিবছর হাজিরা হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগভোগ করেন। এ কারণেই ‘ফ্লাই রিহলার’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে হজ্জগমন প্রার্থীদের মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে ঢাকা, যশোর ও ঝিনাইদহে শাখা রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেটসহ দেশের সব জেলায় তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল মুদাররেসীন-এর সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, যশোর মহিলা আলিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন, ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ম্যানেজার জামিনুর রহমান, আল-ফিকহ ও আকীদা বিভাগের একাধিক লেকচারার, আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর খালিদ আবদুল্লাহ মাদানি প্রমুখ।
স্থানীয় সমাজ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা আয়োজনকে প্রশংসা করেছেন এবং ক্রিকেটারদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

