জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই অভিযোগ করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।
নাহিদ বলেন, এ দেশের জাতীয় ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে শ্রমিকরা এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে—শ্রমিকরাই সামনে ছিল। তিনি বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে কর্মজীবী মানুষের ভূমিকা স্মরণ করান।
নাহিদ ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘শ্রমিকদের রক্তের ঘাম আর ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ওঠা বিএনপি এখন এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুনভাবে গঠিত সরকার গণভোট ও গণ-রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করছে—এগুলোই তাদের গণবিরোধী হওয়ার প্রমাণ। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা শ্রমজীবী মানুষের কথা ভুলে গেছে।’’
তিনি আরও বললেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি বিএনপি ভঙ্গ করেছে। এর ফল ভালো হবে না—জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওয়াদা ভঙ্গের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণআন্দোলন করে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।
নাহিদ বলেন, ‘‘আমরা এখন একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের ব্যাক বিস্তার করছি, যেখানে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার—বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সবখানেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা হবে।’’
তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে এবং একযোগে কাজ করবে।
নাহিদ শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে ডেকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে পদচারণা চালানোর জন্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল ভাবনাকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই তার আহ্বান।
শেষে তিনি সতর্ক করেন যে এখন শুধু জাতীয় সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকা যায় না; রাজপথের প্রস্তুতির প্রয়োজন। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিয়ে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের সব দাবি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে—এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই তাদের আন্দোলন চলবে।

