মাগুরায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আকুব্বার মোল্লা (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিহত আকুব্বার মোল্লা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মাজেদ মোল্লার ছেলে। জানানো হয়, রোববার সকাল ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের একটি দল মহম্মদপুরের চরপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় তাদের তল্লাশি করে বাড়িতে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং আকুব্বার মোল্লাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়।
অভিযান চলাকালে আকুব্বার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পাশে থাকা কর্মকর্তারা বাড়ির বাইরে অবস্থান নেওয়ার পরে, দ্রুত তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। এতে এলাকার মানুষ উৎসুক এবং উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকতাদের ওপর আক্রমণ করেন। এই হামলায় তিনজন কর্মকর্তা আহত হন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে নিহতের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে পেটানোর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযানে নামি। তিনি আরও বলেন, তল্লাশি চলাকালীন আকুব্বার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে বাইরে রাখা হয় এবং তার উপর কোনও নির্দয় বা মারধর করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার কারণে তিনি মারা যান। এই সময় স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের তিন সদস্য আহত হন।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ব্যক্তির বাড়ি থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে, ওই ব্যক্তি মারা যান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। নিহতের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে রেখেছে পুলিশ।

