নারী ক্রিকেট দ্রুতগতিতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যেখানে ক্রীড়া, ব্যবসা ও জনপ্রিয়তা—এগুলো প্রত্যেকটিই একই সঙ্গে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ বাড়ার এবং খেলার গুরুত্ব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।
টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। গত আসরে যেখানে ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলার, সেখানে এবার প্রাইজমানি প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে — যা নারীদের খেলায় আর্থিক সুযোগসুবিধা ও পেশাদার মান আরও উন্নত করবে।
প্রাইজমানির বিস্তারিত ভাঙা হয়েছে এমনভাবে—চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবেন ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা), এবং চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে হার মানা দুই দলই প্রত্যেকে পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা)। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো প্রত্যেকে পাবে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা)। অংশগ্রহণকারী সব ১২টি দলই ন্যূনতম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে। এই আর্থিক সুরক্ষা ও পুরস্কার থেকে ক্রীড়াবিদদের পেশাদার উন্নয়ন ও দলের স্থায়িত্বে বড় সাহায্য হবে।
এবারের আয়োজনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো দলসংখ্যা বাড়ানো—প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নেবে। দলসংখ্যা বাড়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে এবং আরও বেশি দেশের নারী খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবে। আগের আসরগুলোর তুলনায় এ সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুততর হচ্ছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধি ও রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন যে বিনিয়োগ বাড়ায় নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিতি ও প্রভাব বেড়েছে এবং এই বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়তে সক্ষম হবে।
টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াতে আইসিসি ইতোমধ্যে ট্রফি ট্যুর শুরু করেছে। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর ট্রফিটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে এবং মে মাস জুড়ে ইংল্যান্ডের লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে ভক্তরা ট্রফি দেখার সুযোগ পাবে। এই আয়োজনগুলো টুর্নামেন্টের আলোচ্যসূচি ও আগ্রহকে আরও তীব্র করবে।
টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১২ জুন ২০২৬—উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ফাইনালসহ মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসির এই উদ্যোগ নারী ক্রিকেটকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

