কন্নড় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন জগত গভীর শোকে ভেসে উঠেছে — জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ আর নেই। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি জীবন হারান, যা শিল্পীজীবন ও অনুরাগীদের জন্য এক বড় ধাক্কা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরের দিকে দিলীপ রাজের শরীরে 갑작িক অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মিনিট পরেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের তরফে এই ঘটনাটির বিবরণ জানানো হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত odlযানে কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শোকমগ্ন পরিবেশ সরকারি; সহকর্মী ও ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়াতে শোকবার্তা প্রকাশ করছেন। অভিনেতা চেতন কুমার একসুত্রে স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, “দিলীপ শুধু একজন দক্ষ অভিনেতা নন, মানুষ হিসেবে ও ছিলেন অসাধারণ। ওর মতো আন্তরিকতা খুব কম লোকের মধ্যে দেখা যায়।”
দিলীপ রাজের কর্মজীবন বহুমুখী এবং প্রাণবন্ত ছিল। ছোটপর্দায় তিনি সুপরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন—‘রঙ্গোলি’, ‘কুমকুম ভাগ্য’ থেকে শুরু করে হাল ফেরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হিটলার কল্যাণ’ পর্যন্ত তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে গভীর ছাপ রেখেছে।
বড় পর্দায় নায়কের ভূমিকায় তিনি ২০০৫ সালে অভিষেক ঘটান এবং ২০০৭ সালে পুণিত রাজকুমারের ব্লকবাস্টার ‘মিলানা’-তে ভিলেনের চরিত্রে অবতীর্ণ হয়ে সবাইকে চমকে দেন। এরপর ‘ইউ-টার্ন’, ‘লাভ মকটেল ৩’ সহ প্রায় ২৪টিরও বেশি সিনেমায় তাকে দেখা গেছে।
প্রযোজক হিসেবেও দিলীপের গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিআর ক্রিয়েশনস থেকে বহু হিট ধারাবাহিক ও বিনোদনমূলক প্রজেক্ট তৈরি হয়েছে। অভিনয়, প্রযোজনা এবং থিয়েটার— তিনক্ষেত্রেই কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিতে তার অবদান গভীর।
অকস্মিক এই মৃত্যুতে সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা শোকাহত; অনুরাগীরা তাকে ‘হিটলার কল্যাণ’-এর চিরস্মরণীয় নায়ক হিসেবে মনে রাখবেন। তার আকস্মিক চলে যাওয়া কন্নড় তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক শূন্যতা রেখে গেল।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

