দুদক মানবাধিকার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিটিসিএলের ফাইভ-জি উপযোগীকরণ প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং দুদকের তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগে সাবেক কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যুবের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
দুদকের পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধানী দল ইতোমধ্যে এর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাবলিক কমিশনের সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে, যা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার জন্য কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফয়েজ তৈয়্যুবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রকল্পটি শেখ হাসিনার সরকারে শুরুর পরে দুর্নীতির অভিযোগে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উপদেষ্টার উদ্যোগে প্রকল্পটি আবার চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগের মুখে সেই প্রচেষ্টাও আর এগোতে পারেনি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী ‘ফ্যাক্টরি ফিজিক্যাল প্রি-অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট’ (এফপিএটি) সম্পন্ন না হওয়ায় জাহাজীকরণ ও অর্থপ্রদানের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে, ফয়েজ তৈয়্যুব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাতিল হওয়া সরকারি আদেশ পুনরায় জারির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু এর সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ ও অনুসন্ধান সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, এই প্রস্তাবটি মূলত হুয়াওয়েকে লভ্যাংশ বা অর্থপ্রাপ্তির সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছিল, যদিও তিনি নিজে অনুমোদন দেননি। কাজের মাঝে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে হুয়াওয়েকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও দেখা যায়, বিটিসিএলের ক্রয় কার্যক্রমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধি লঙ্ঘনের অনেক চেষ্টা চালানো হয়। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে দুদকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এফপিএটি চালুর দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি মৌখিক অনুমোদনও চেয়েছেন। তবে তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রকল্পে বিভ্রান্তিকর ও গোপন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে এফপিএটি ছাড়াই জাহাজীকরণ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালানো হয়। এর মাধ্যমে এলসির অর্থ পরিশোধের পথ সহজতর করার চেষ্টা ছিল।
অতিরিক্ত, সরকারি লেটারহেড ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ২২ জুন দুদক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমেও অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
তদন্তে চীনের সফরও খতিয়ে দেখা হয়েছে, যেখানে সরকারের নির্দেশে চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে ফয়েজ তৈয়্যুবের সফরটি সম্পন্ন হয়। দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি হুয়াওয়ের একাধিক কার্যক্রমের অংশ, যা স্বার্থের বিরোধিতা তৈরি করেছে।
দুদকের মূল্যায়নে, ফয়েজ তৈয়্যুবের কর্মকাণ্ড পেশাগত অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বে বিজ্ঞানের অভাবের লক্ষণ বহন করে। তিনি বা তার আশপাশের কেউই নিজের বা অন্যের স্বার্থের জন্য যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি বলে প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে, দুদক তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির धारার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সহ অন্যান্য ধারাগুলোতে মামলা করার সুপারিশ করেছে।

