জানিয়ে দিন গণভোটের রায় মেনে নিন — জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হয় তবে ১৯৯৬ সালের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে এবং মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। মূলত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ কমানো ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের পরিষ্কার কথাটি হলো—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি না করেন তাহলে ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। তখন যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান এনে পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এমন পরিস্থিতি আবারও দেখবে দেশ। তাই ভালোয় ভালোয় রায় মেনে নিন, জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই; অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আপনাদেরকে দীর্ঘসময় সুযোগ দেব না। আপনারা পরিবর্তন আনার সুযোগ পাবেন—কিন্তু সময় সীমিত। এই সময়ের মধ্যে কাজ করলে আমরা অভিনন্দন জানাব, না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’’
বাজেট নিয়ে বিরোধীদলীয় প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে শফিকুর বলেন, ‘‘বাজেটের বিরুদ্ধে বিরোধীদল প্রতিক্রিয়া জানাবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কিছু নেই। ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন তা ভাবুন। যখন ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করা হবে, তখন জনগণ চুপ করে বসে থাকবে না।’’
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেছেন, মাদকের ওপর বা সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধী দলের অসন্তুষ্টি নিয়ে আনা বক্তব্য মিথ্যা ও অবাস্তব। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর পদ রাষ্ট্রীয়, বিশ্ববাসী তাঁর কথার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান বিচার করবে, তাই দায়িত্বশীল ভাষ্য দিন।’’
সমাবেশে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) চেয়ারম্যান এ. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সমাবেশটি রাজনৈতিক উন্নয়ন, জনগণের দুর্ভোগ হ্রাস ও মূল্যস্ফীতির সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে শেষ হয়।