ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক ব্যাংক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাতকে নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলা সংক্রান্ত চার্জশিটভিত্তিক গ্রেপ্তার দেখানো প্রতিবেদন থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আবুল বারকাতের পক্ষে তাঁর আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানির পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমনও জামিন মঞ্জুর হওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশের সঙ্গে তৎকালীন সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ। নিহতের শ্যালক আব্দুর রহমান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় তখন ১৩০ জনকে অভিযোগ করা হয়, যার মধ্যে দেশের শীর্ষ নেতাদের নামও ছিল।
প্রাথমিক এজাহারে আবুল বারকাতের নাম ছিল না। পরে পুলিশের অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে তিনি ছাত্র-যুব সংগঠनोंকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং তার নির্দেশনাতেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—এই ব্যপারগুলো আদালতকে জানানো হয়।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এই মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। পরে দ্বিতীয় দফায় করা জামিন আবেদন আজ মঞ্জুর করা হলো; এর আগে একবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন সোমবার করা আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
আইনজীবীরা জানান, আগেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি বড় মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আবুল বারকাত জামিনে ছিলেন। জনতা ব্যাংকের চেয়ারের সময় এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে এবং ওই মামলায় মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২১ মে শর্তসাপেক্ষে তার জামিন বহাল রাখেন। ওই নির্দেশনায় উল্লেখিত শর্তানুযায়ী ৭ জুন তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়ে জামিননামা দাখিল করেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য, নতুন এই হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার পরে তার কারামুক্তিতে আর কোন আইনি বাধা নেই। তবে হত্যাকাণ্ড ও পুলিশি দাবি সম্পর্কে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালত-নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে তার মুক্তির বিষয়টি চুড়ান্ত হবে।