বাংলাদেশের একজন প্রবীণ ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাবেক স্পীকার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জমির উদ্দীন সরকার, আজ (১২ জুলাই) ভোররাতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন তার কন্যা ও ছেলে, যারা ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি শ্যামলীস্থ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থতার কারণে কিছুদিন ধরে তিনি হাসপাতালে ছিলেন। তার কন্যা নওফেল জমির জানান, বাংলাদেশ সময় ভোর ফজরের সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অপর একটি পোস্টে বিএনপি’র নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জমির উদ্দীন সরকার ১৯৩১ সালে ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে বিএ অনার্স ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করে, পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার পরিবারে বৃহৎ পরিসরে সন্তান বংশ রয়েছে। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলে জনক, যার মধ্যে তার ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নওশাদ জমির ২০১৮ সালে পঞ্চগড়ের আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৪৫ সালে, ছাত্র থাকাকালীন তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের পক্ষের ছিলেন। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা কেন্দ্রের একজন স্থায়ী সদস্য ও মাওলানা ভাসানীর সহচরও ছিলেন।
আইন পেশায় ব্যাপক খ্যাতি অর্জনের ফলে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বেশ কয়েকবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাগদল গঠনে একপ্রকার নেতৃত্বদান করেছেন, যা শেষে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
তিনি প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ সালে দিনাজপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেশটির বিভিন্ন নির্বাচনে তাকে পুনরায় পঞ্চগড় ও ঢাকার বিভিন্ন আসনে নির্বাচিত হতে দেখা যায়। ২০০৯ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার মন্ত্রিত্বের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প ও কাঠামোগত পদক্ষেপ সম্পন্ন করেন। তিনি গণপূর্ত, নগর উন্নয়ন, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আজ এই প্রিয় ও জননেতার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তাঁর অবদান ও শ্রম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

