দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এবং দুর্গত এলাকাগুলিতে দ্রুত এবং কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। শনিবার السلطاتের পক্ষ থেকে হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মোঃ মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।
অধিদপ্তর জানায়, সম্প্রতি বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন বিভাগীয় মহাপরিচালক, জেলা সিভিল সার্জনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য জরুরি সিদ্ধান্তগুادر গৃহীত হয়।
এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বন্যা আক্রান্ত প্রত্যেক উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোনয়ন করতে হবে। এই ফোকাল পারসনরা কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং সমন্বয় করবেন। মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য যোগাযোগ তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে।
বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। এই টিমগুলো আক্রান্ত এলাকাগুলোর দ্রুত চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করবে।
পরবর্তী ধাপে, প্রতিদিনের বা আঞ্চলিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ফোকাল পারসনরা নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস নোটের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে পরিস্থিতি ও কার্যক্রমের তথ্য জানাবেন। রোববার (১২ জুলাই) একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হবে।
অতিরিক্তভাবে, বন্যা প্রভাবিত প্রত্যেক উপজেলায় জরুরি অষুধ, ওআরএস/স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুদ এবং বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অ্যান্টি-স্নেক ভেনম যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ছুটি বাতিলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্দেশনা সত্যিই বন্যার মতো দুর্যোগের সময় দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

