গোয়েন্দা পুলিশ সম্প্রতি এক বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট-সম্বলিত সিম কার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রের সদস্যরা দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করতেন, যা হতাশাজনক রকমের বিপুল পরিমাণ অর্থ। মূল হোতাসহ সহযোগীরা এজেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে লেনদেন চালাতেন। এই লেনদেনের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা এবং অন্য যাবতীয় অপারেশন চালানো হতো।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে কাজ করতেন মো. আরিফুল ইসলাম (২৩), যিনি অতীতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা চলমান। সম্প্রতি তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে বিভিন্ন ধরণের অপ্রচলিত উপায়ে অর্থ উপার্জন করেছেন। গাজীপুরের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে তাকে এবং আরও দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়, এরপর ঘটনাস্থলের তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হোটেল থেকে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু চীনা নাগরিক নাতান। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল গো পে নামের একটি কোম্পানি, যা এই জুয়া ব্যবসার মূল কার্যক্রম পরিচালনা করত। এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন আনুমানিক ৭০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা লেনদেন হত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত আইটি ডিভাইসগুলোর বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, তারা বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই রকম বেশিরভাগ জুয়া সাইট ও অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ চীনা নাগরিকরা পরিচালনা করেন, এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতি ও স্বার্থের ক্ষতি।
আদালত তাদের ছয়জনকে তিন দিনের রিমাণ্ডে পাঠিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ডিবি সাইবার সিকিউরিটি ও সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম-কমিশনার সৈয়দ হারун অর রশীদ। তিনি বলেন, এই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে নাতান নামের চীনা নাগরিকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং প্রতিদিন অজস্র কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তারা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।