মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার ও বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ওএসডিপ্রাপ্ত যে এমপি বা অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালে, যখন তিনি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ট্রাইব্যুনাল সোমবার এই মামলার শুনানি শেষে এ মামলায় জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে, মামলার তদন্তে উঠে আসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথাও বলেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোঃ আজমত হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে জহিরুল ইসলাম বাদীর সঙ্গে বিভিন্ন অজুহাতে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তিনি বাদীর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তার সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগে আরো বলা হয়, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মাগুরায় সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন জহিরুল। পরবর্তীতে, ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে বাদী সুস্থ হলে, নিজেকে তার স্বামী দাবি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া, বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, আরও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও, একজন প্রতিশ্রুতিশীল স্বামী হয়ে বিভিন্ন সময় সম্পর্ক চালিয়ে যান। তবে ২০২৫ সালে বাদী বিয়ের জন্য চাপ দিলে, জহিরুল অস্বীকার করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিলে হুমকি দেন। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি ও আইজিপির কাছে অভিযোগ দায়ের হয়। মামলার সাক্ষ্য ও তদন্তে এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নেয় এবং আদেশ দেন তদন্তের পর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য। গত ১৪ জুলাই এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যেখানে আসামির বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এই ব্যাপারে জহিরুলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

