রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক মারধরের ঘটনাস্থলেই আদালত এক মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি করা হয়েছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ নয়জন রাকসু ও শিবির নেতার বিরুদ্ধে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী জেলার মতিহার থানার অ্যানিমলি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা, জনৈক এম এস আজাদ উজ জামান। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালত মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে মাহমুদুল হাসান কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে থাকাকালে একদল ১৯-২০ জনের মতো যুবক দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেত, বাঁশের লাঠি নিয়ে তার ওপর আকস্মিক হামলা চালাতে শুরু করে। হামলার সময় তারা তার মাথা ও কপালে একাধিকবার লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। অন্যান্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন এবং পরে তাকে মাটিতে ফেলে বুক, গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করার চেষ্টা করে। অভিযুক্তদের চাপাতির মতো ক্ষত ও গুরুতর আঘাতের কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে ওঠে, তবে স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতেই প্রথমে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে, আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। মাহমুদুল হাসানের বাবা বলেন, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে এই হামলার খবর পান এবং হাসপাতালে এসে দেখা পান তার ছেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তিনি আরও জানান, ২৮ জুলাই মথিহার থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা গ্রহণ না করে আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার কয়েক দিন আগে, সোমবার রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির ও রাকসু ও শিবির নেতারা দফায় দফায় মারধর করেন মাহমুদুলসহ তিন শিক্ষার্থীকে, যার মধ্যে মাহমুদুলকে প্রক্টরিয়াল বডি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিন দফা মারধর করা হয়। পরে তাকে ও অপর একজন শিক্ষার্থী আনাস আহমেদকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

