ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের এক কৃষক হানিফ মিয়া এখন রাতারাতি জেতার গল্পে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন। তিনি দাবি করছেন, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) জাতীয় লটারি-২০২৬ সালে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৩০ লাখ টাকা পেয়েছেন, আর সেটি জেতার জন্য তার ভাগ্য আন্দোলিত হচ্ছে। তবে এই পুরস্কার বৈধ কি না, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে মূল্যায়ন করবে।
সূত্র মতে, হানিফ মিয়া নিজে একেবারে সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে থাকেন। তিনি একজন পরিশ্রমী মানুষ, ওষুধের দোকানে কাজের পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করে নিজের জীবন চালিয়ে নেন। সম্প্রতি, তিনি লটারির টিকিটটি পেয়েছেন মাত্র ২০ টাকায়। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ভাগ্য এভাবে বদলে যাবে ভাবিনি। মহেশপুর বাজারে ওষুধের দোকানে কাজ করতে করতে শুনতে পেরেছিলাম যে, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির লটারি চলছে। তখন আমি ২০ টাকা দিয়ে দুটো টিকিট কিনি। পরে ফলাফল দেখে আমার একটি টিকিটের নম্বর ম্যাচ করে যায় প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সাথে।’
হানিফের মতে, সে সময় তিনি অনলাইনে ফলাফল দেখছিলেন এবং হঠাৎই দেখতে পান, তার কাছে থাকা টিকিটের নম্বরের সাথে প্রথম পুরস্কারের নম্বরটি মিলে যায়। তখন তিনি নিশ্চিত না হয়েও, বাড়ি ফিরে গিয়ে তড়িঘড়ি করে বিপিকেএসের অফিসে যান। সেখানে টিকিটটি পরীক্ষা করে দেখান কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, পরীক্ষায় তার টিকিটটি আসল বলে মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির লটারি প্রকল্পের পরিচালক মোঃ আলম কবির জানান, বর্তমানে তারা হানিফের টিকিটের সত্যতা যাচাইয়ে কাজ underway। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে টিকিটটি সত্য মনে হলেও, বাংলাদেশের ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে।’
শুরুতে, এই প্রক্রিয়া ২০ আগস্ট থেকে শুরু হবে এবং সব যেহেতু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
অবশ্য, বিশেষ এই খবরে তিনি খুবই আশাবাদী, নিজের পরিবারের দুরাবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য বড় ধরনের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। তার বাবা অন্যত্র নতুন সংসার করে থাকেন, মা হামিদা বেগম ও তিনি ছাড়াও আরও দুই বোন আছেন। সম্প্রতি এক ভগ্নিপতি বাবার কাছ থেকে তাদের জমি কিনে নেওয়ায় মানসিক চাপ বেড়ে গেছে। ভাগ্য পরীক্ষা করতে লটারি কেনার সিদ্ধান্তও তার জন্য ছিল এক প্রকার আশ্রয় ও স্বস্তির খোঁজ।
তার স্ত্রী নীলা আক্তার বলেন, ‘শুরুর দিকে আমি এই টাকা দিয়ে সংসারের জন্য সবজি কিনে নেওয়ার প্রসঙ্গে উনাকে বকাঝকা করেছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম, আমাদের টিকিটের নম্বর প্রথম পুরস্কারের সাথে মিলে গেছে, তখন পুরো ঘটনা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। মনে হলো, যেন স্বপ্ন দেখছি। যদি এই টাকা পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো হবে।’
এখন, এই বিশাল পুরস্কার পেলে হানিফ মিয়া তার স্বপ্নের সংসার গড়ে তুলতে আরও বেশি উৎসাহী। তিনি চান, ওষুধের দোকানটি আরও সম্প্রসারিত করুন, হাঁসের খামার বাড়ান এবং পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালনে সক্ষম হোন। এই আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে তিনি এখন অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে দ্রুত সব কিছু সুষ্ঠু হয় এবং তিনি তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে পারেন।

