আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে জানান, ২০০০ সালের রাজনৈতিক অধ্যায় ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকেও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সদর দফতরে স্থাপিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) নামে এক নির্যাতন কেন্দ্রের এক সেলে নিয়ে অত্যাচার করা হয়েছিল। তিনি জানান, এই তথ্য সুষ্ঠু তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) জেআইসির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের পরে তিনি এ সব কথা প্রকাশ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অপ্রতিদ্বন্দ্বী একটি সময় ছিল যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে নির্মম ও অমানবিক সাধারণstate প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ‘আয়নাঘর’ নামে একটি টর্চার সেল তৈরি করা হয়, যেখানে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে আটকে রাখা হয় ও নির্যাতন চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘১/১১’ সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে আটকিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরে জেআইসি সেলের বেশ কিছু আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন দেয়াল দিয়ে ঘেরা, তথ্য-প্রমাণের অবনতি হয়েছে এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বিনষ্ট করা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে কচুক্ষেতে অবস্থিত এই বন্দিশালা পরিদর্শনে যান ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ, বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীসহ অন্যান্য বিচারক ও প্রসিকিউশন সদস্যরা। এতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মুহাম্মদ শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য, তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিরা, এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে ১ আগস্ট সকালে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দফতরে গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীরা। সেখানে তারা মোট ২৯টি কক্ষ পরিদর্শন করে বন্দিশালার আড়ালে থাকা নির্যাতনের চিত্রের ধারণা নেন।
গত ২১ জুলাই, ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও আইনজীবীরা চিফ প্রসিকিউটর আবেদনের প্রেক্ষিতে র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালাগুলোর বিস্তারিত তদন্ত ও পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন।

