দেশে ‘বাংলাদেশ জেল’ নামে পরিচিত কারাগারগুলোর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন নাম হবে ‘কাস্টোডিয়াল এ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’, যা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো: মোতাহার হোসেন। মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনা ও মূলনীতি অনুযায়ী কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধান যুগোপযোগী করার জন্য চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে ‘কাস্টোডিয়াল এ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট’ এর খসড়া ভাবনে প্রস্তুত করে সেটি অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
কাউন্সিলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে-পরে কিছু দুঃশাসন ও বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে ৫টি কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি কারাগার থেকে ৮২৬ জন পালান। এ ঘটনার ফলে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। এখনো চলমান অভিযান শেষে ১ হাজার ৫৮৭ জন পলাতক রয়েছে, যাদের মধ্যে ১৬৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য শনাক্ত হয়নি।
আইজি প্রিজনস আরও জানান, কারাবন্দি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ফোনে কথা বলার বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত এক বছরে ৩ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কারাগারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে দীর্ঘ দিন ধরে চলা জনবল সংকটের সমাধানে ১ হাজার ৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

