কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। তিনি জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সার নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, তা আসলে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয় এসব কথা।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ছয় মাসে কৃষি মন্ত্রণালয় আশা অনুযায়ী সুন্দরভাবে কাজ করে আসছে। সবজি ও খাদ্য রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে নানা সমস্যা জানা হয়েছে। আমি আশাবাদী, দ্রুতসময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো কাঁঠাল রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছি। বড় পরিমাণে এর রপ্তানি হবে। এছাড়াও, আমসহ অন্যান্য ফলের জন্য প্যাকেজিং ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে জাপান থেকে আন্তর্জাতিক মানের এই ইউনিট আনা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সরকার বিশ্বাস করে, কৃষি শক্তিশালী হলে অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এজন্য, কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিতের পাশাপাশি রপ্তানি উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বছর পর্যন্ত পেঁয়াজের কোনও আমদানি করতে হয়নি। এর আগে, পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার সমস্যা থাকলেও এখন তা স্টোরেজে রাখা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। গত ছয় মাসে নির্ধারিত টার্গেটের প্রায় পুরো অংশে, অর্থাৎ ২৫ লাখের মধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাছ রোপন সম্পন্ন হয়েছে।
বর্ষায় কাঁচামরিচ আমদানি করতে হয় বলে জানান মন্ত্রী, তবে উচ্চ দামের কারণে এবার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দিনের মধ্যেই বাজারে দাম ঠিক হয়ে যায়। তিনি জানান, পরবর্তী বছর থেকে কাঁচামরিচের আমদানির প্রয়োজন যেন না হয় সে জন্যও চেষ্টা চলছে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মূলত কৃষিভিত্তিক দেশ, তাই কোনও কৃষিপণ্যই আমদানি করা হবে না। এই লক্ষ্য নিয়ে সরকারের কাজ চলছে। আগামী মৌসুমে নতুন জাতের বীজ, বিশেষ করে ১১৮ নম্বর অনাবশ্যকীয় জাত, দেওয়া হবে। বন্যার আগে এবং হাওরাঞ্চলে ফসল তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার সব পাম্পকে সোলারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে, যা ডিজেল ও বিদ্যুৎ খরচ কমাবে এবং পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হবে। দাতা সংস্থা ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের জন্য অর্থের প্রয়োজনও বেশ কমে যাবে বা অতি সামান্য খরচের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।
বর্তমানে বর্ষাকালে সবজি উৎপাদন সহজ নয়, কারণ উৎপাদন খরচ বেশি। বাজারে যে দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে, সেটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। একজন কৃষকের জন্য, এক কেজি করোলা ফলাতে তার কত খরচ হয়, সেটা অতোটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর কৌশল নিয়েও কাজ করছি। আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যেই সব কৃষকের সঙ্গে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি উন্নত প্রযুক্তি ও সঠিক ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে করা হবে, যাতে কৃষকরা আরও লাভবান হতে পারেন।

