কানাডার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় লিপিবদ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা ডলি বেগম। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি একপ্রকার বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন, যা দেশটির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই উপনির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই ফলাফল লিবারেল পার্টির পার্লামেন্টে আসন সংখ্যা বাড়াতে এবং দলকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়ক বলে বলা হচ্ছে।
ডলি বেগম ফেডারেল পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে তিনি অন্টারিও প্রদেশীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বারবার সরব কণ্ঠ হয়ে তিনি পরিচিত।
বিজয় ভাষণে ডলি বেগম বলেন, ‘‘এই জয় শুধু আমার নয়—এটি বহুসাংস্কৃতিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কানাডার মূল্যবোধের জয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন যে, পার্লামেন্টে তিনি স্থানীয় মানুষের জীবনমান, অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা ও সমঅধিকারের জন্য তীব্রভাবে কাজ করবেন।
বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলো তাঁর এই ফলাফলকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে গ্রহণ করেছে। অনেকে বলছেন, ডলি বেগমের সফলতা নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি ও নেতৃত্বে আগানোর জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, উপনির্বাচনে এমন প্রভাবশালী জয় লিবারেলদের জন্য মানসিক ও সাংগঠনিক উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ডলি বেগমের নেতৃত্বে আগামিকালে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কোন ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেটাই এখন নজর কাড়ছে।

