প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সমাজে গণপিটুনি ও মবের মতো ঘটনাগুলো প্রশ্রয় পেয়েছে, যা সমাজে অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। এই পরিস্থিতির ফলে মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের কোনও স্থান নেই সমাজে। কোনো অপরাধীই যতই বড় বা দৃষ্টিকটু হোক না কেন, শাস্তির দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং এর জন্য কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিচার করার অধিকার নেই। আইন নিজের হাতে নেওয়া সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি বিচারবহির্ভুত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় পাওয়ার কারণে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হয় যে কেউ ইচ্ছে করলে অপরাধীদের শাস্তি দিতে পারে, যা একেবারেই অপ্রীতিকর। এই সংস্কৃতির থেকে বেরিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। এমনকি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এলে শারীরিক আঘাত বা পিটুনি দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়াও, তিনি জানান, প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে। সংগঠিত সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে, এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। গণপিটুনির মাধ্যমে নয়, আইনের শাসন বজায় রাখতে হবে। মানুষকে এই মানসিকতা থেকে সরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে।

