দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার উদ্দেশ্যে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই প্রয়াসের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা জাইমা রহমান যুক্ত হচ্ছেন ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতি ক্ষেত্রে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চলমান কোচ সংকট এবং কক্সবাজারে ফিফার আন্তর্জাতিক মানের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও সরকার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
গত রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। এই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।’ তিনি যোগ করেন, ‘রিপেলডাকেল দায়িত্ব নিলে আমাদের জন্য তা বড় উৎসাহের বিষয়। স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বৃদ্ধি সম্ভব। এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, এই গুরুত্বের কারণে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা স্পোর্টস উইং খোলা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি উদ্যোগে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে, যাতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যায়।
অন্যদিকে, জাতীয় ফুটবল দলের জন্য উচ্চ পারফরম্যান্সের কোচ নিয়োগ এবং কক্সবাজারে ফিফার মানের এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণের জন্য অর্থায়ন নিয়ে কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তা চলছিল। এ বিষয়ে আমিনুল হক আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাফুফে যদি যোগ্য ও দক্ষ কোচ নিয়োগ করার ক্ষেত্রে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়, তবে সরকার আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রতিটি জেলায় এবং বিভাগে খেলাধুলার পরিবেশ সুদৃढ़ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জিয়া পরিবারের ক্রীড়াপ্রেমের ইতিহাস ঐতিহাসিক। ডা. জুবাইদা রহমানও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর মতো কার্যক্রমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’

