ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরার বৃহস্পতিবার সকালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ জন পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখন তাদের উদ্ধারে তৎপর অভিযান চালাচ্ছে।
আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি প্রশমন কেন্দ্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ডুকোনোতে শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। বিস্ফোরণের সময় ছাইয়ের কলরা প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে যায় এবং বিক্ষিপ্ত ছাই আকাশে বিস্তৃত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ানক গর্জনের শব্দও স্থানীয়রা শোনেন।
স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি জানান, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের উদ্ধারে পুলিশ, জরুরি উদ্ধারকর্মী এবং কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে নয়জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক।
উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু বলেছেন, ঘটনার সময় পর্বতারোহীদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং তাদের মধ্যে দুইজন বিদেশি নাগরিক।
বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির অস্বাভাবিক গতিবিদ্যা লক্ষ্য করার পর ১৭ এপ্রিল থেকেই ওই অঞ্চল পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। তবু কয়েকজন হয়ত নিষেধ অমান্য করে সংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটারের কেন্দ্র থেকে অন্তত চার কিলোমিটার দূরে থাকতে বলা হয়। এছাড়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে পড়া বড় বড় পাথর এবং লাভার প্রবাহের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।
সরকারি আগ্নেয়গিরি সংস্থার তথ্যমতে, ছাইয়ের মেঘ উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের ছাই-বর্ষণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে জোর দেওয়া হচ্ছে।
মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে খ্যাত। মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত লক্ষ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার রয়েছে এবং আরও তথ্য পাওয়া মাত্র জানানো হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা

