চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু)-র ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বিরল মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক ও হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে ড. জুথি সামান্য জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরুতে এটি সাধারণ ফ্লু হিসেবে ধরা হলেও দ্রুত তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাঁর শরীরে মারাত্মক পরিবর্তন দেখা দেয়; চিকিৎসকরা ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ নির্ণয় করে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর সময় তিনি ক্লিনিক্যালভাবে ‘ব্রেইন ডেড’ অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্রীক একজন চিকিৎসক, ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর স্নায়বিক জটিলতা এবং স্ট্রোক দেখা দেয়; ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস হতে পারে।
জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স নামক মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হাসপাতাল ও পরিবারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ড. জুথির ক্ষেত্রেও ভাইরাসজনিত ঘনিষ্ঠ স্নায়বিক জটিলতার ফলে দ্রুত অবনতি ঘটে।
ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি ছিলেন ২০০৭-০৮ সেশনের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের একজন। তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ও কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। চলতি বছরের শুরুতে সিভাসুতে তিনি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
ব্যক্তিগত জীবনে তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্ণবও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তাদের একটি পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে।
সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানীকে হারাল; ড. জুথির মৃত্যু দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
