পুলিশ সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। চলতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০৯ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে প্রাথমিকভাবে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদকের তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত নাম থাকায় এবং বিশেষত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তার নাম উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলের নজরে আসার পর সরকারি অর্ডার (জিও) জারি করা হয়নি এবং তাই কোনো প্রজ্ঞাপনও প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি ও পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, এ বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করে পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার রাতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, ‘‘রোববার পদক বিতরণ করা হচ্ছে না। পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যেই রয়েছে। যারা মনোনীত হয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন, আবার নতুন করে কেউ যুক্তও হতে পারেন।’’
পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মহলে এ সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তালিকা ঘোষণার পর থেকে কিছু পর্যায়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিভাগের ভিতরে তীব্র আলোচনা আছে।
সাধারণত সাহসিকতা, কর্মদক্ষতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ পদক দেয়া হয়। এই সম্মানজনক পদকটি পাওয়া চৌকস ও নিবেদিত পুলিশ সদস্যদের জন্য মর্যাদার ব্যাপার। তবে এবারের মনোনীত তালিকা প্রকাশের পর মাঠ পর্যায়ের কিছু সদস্য অভিযোগ করেছেন যে রাজনৈতিক যোগ্যতা ও তদবিদের কারণে অনেকে পদকের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। ফলে প্রত্যক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সক্রিয় থাকা অনেক মাঠকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কারণ অনেকে পদক পায়নি।
পুলিশ সূত্র বলছে, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ হলে পুনরায় তালিকা প্রণয়ন করে পদক প্রদান করা হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য আরও সময় লাগতে পারে।
