প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া অন্য অঞ্চলের উন্নয়ন কি হয় না—এমন প্রশ্ন তুলে নিয়ে আসছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশান অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক করেছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনের মন্ত্রী হবেন না, সেই এলাকার কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করতে হলে সমগতভাবে জরিপ চালাতে হবে—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন। এই সরকারকে ন্যায্য ও মানবিক সমাজ গড়ার জন্য দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় যে হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, সেই আন্দোলনের তিক্ত স্মৃতি এখনও তাজা। অতীতের মতো এই সরকারের কাছে এখনো বৈষম্যমূলক সমাজ গড়ে তোলার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সরকারের ক্ষমতা, তবে তারা এখন অন্যরকম নীতিতে পথ হাঁটছেন—সুন্দর সমাজ গড়ার বদলে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলছেন। এটি শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
দেশের রেল যোগাযোগের দুরবস্থার জন্য তিনি দুর্নীতিকে দায়ী করেন। বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন সাফল্যের শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে, তখন আমাদের দেশ এখনও রেল ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পিছিয়ে রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটির নেটওয়ার্ক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এখনই সময়। নতুন বাজেটে প্লেস্কেল ও রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিপূরণের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন থেকে নিজস্ব সিদ্ধান্তের পথই চলবে এবং কোনো বাইরাকারি শক্তির চাপ বা নির্দেশনায় পরিণত হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমস্ত বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়নের উপর সরকারের হঠকারীতার কঠোর সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেন, “সরকার শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার সংকুচিত করে দিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি অবিচার করছে। একটি কারখানায় তিনটি সংগঠনের বেশি রেজিস্ট্রেশন থাকতে পারবে না—এ ধরনের বিধিনিষেধ শ্রমিকদের মতো সংগঠিত হওয়ার স্বাভাবিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমি দাবি জানাই, কারখানা যত বড় হবে, তত বেশি সংগঠন থাকা উচিত, যেন শ্রমিকরা মালিকদের সঙ্গে ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সহজে আলোচনা করে থাকেন।”

