পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চিট ফান্ড ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কিছু দেশবিরোধী ও স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, তারা নানা ধরনের উসকানি দিয়ে জাতির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। তাই আমাদের সবাইকে এই পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাহসী স্মৃতি হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়তে পারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে লাখ লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব বাতিল ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠছে। এই ভোটারদের মধ্যে মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। তিনি আরও বলেন, আমি সংসদেও উল্লেখ করেছি, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হতে পারে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নতুন করে প্রতিহিংসা ও অত্যাচার বাড়ছে।
নাহিদ ইসলামের সতর্কবার্তা, দেশের স্বার্থবিরোধী ও বিরোধীদলীয় গোষ্ঠীগুলো নানা উসকানি, চক্রান্ত ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তিনি সবাইকে এই পরিস্থিতিতে সর্তক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের সক্রিয় হতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করবে। তিনি মুসলমান, দলিত, মতুয়া ও অন্যান্য সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া নেতাকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে দলীয় ঐক্য ও শক্তিশালী অবস্থানের উপর গুরুত্ব অন্যত্র তুলে ধরেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্ব›দ্ব থাকা চলবে না। যে কোনো স্থান থেকে আসুক না কেন, জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
বক্তব্য শেষ করে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি সবাই একসঙ্গে থাকব?’ এর জবাবে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে উচ্চারণ করেন, ‘ইনশাআল্লাহ’।

