দ্বীনি শিক্ষার মানউন্নয়ন ও যুগোপযোগী পাঠদানে দক্ষ, দায়বদ্ধ ও আদর্শবান মুআল্লিম তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাবেতাতুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়্যাহ আল-মারকাযিয়্যাহ বাংলাদেশ।
আজ রোববার (১০ মে) দক্ষিণ বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র, শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি জিহাদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত বয়রার রায়ের মহল জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ে হাসানার প্রাঙ্গণেই এ ইলমী ও প্রশিক্ষণমূলক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ শিক্ষক, আলেম-উলামা, ছাত্র ও দ্বীনপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে জড়ো হয়ে এক পেশাদার ও মনোগ্রাহী শিক্ষামূলক পরিবেশের সৃষ্টি করে।
খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিন শতাধিক উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ও তালিবুল ইলম অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় দ্বীনপ্রেমী সাধারণ মানুষের আগমনও ছিল লক্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইলম চর্চা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় দেখা গেছে।
ট্রেনিংয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসার অভিজ্ঞ আলেম ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে সময়োপযোগী ও গঠনমূলক আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল মুআল্লিমের চারিত্রিক গঠন, আধুনিক পাঠদানের পদ্ধতি, ছাত্রদের মানসিক-আত্মিক বিকাশ, আদব-আখলাক ও দ্বীনি খেদমতের প্রতি আনুগত্য ও দায়বোধ।
প্রধান অতিথি দারুল উলূম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা মুফতি জসীম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “একজন মুআল্লিম কেবল পাঠদানকারী নন; বরং তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর ইলম, আমল, আখlaq ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ছাত্রদের হৃদয়ে দ্বীনের ভালোবাসা সৃষ্টি করেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দ্বীনি শিক্ষাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষকরা যুগের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও সচেতন হতে হবে এবং ছাত্রদের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা ওসমান ফয়জী ইখলাস, আত্মশুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুফতি মাহমুদুল হাসান ছাত্রদের সঙ্গে সদাচরণ, পাঠদানের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং শিক্ষকের ধৈর্য ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মুফতি ফুরকান আহমাদ মাদ্রাসার পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষক間 সুসম্পর্ক ও শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহ্য ও আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন। ডক্টর নুরুল আবসার দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “শিক্ষক যদি আদর্শবান হন, তাহলে ছাত্ররাও আদর্শবান হবে।”
মাওলানা আনোয়ার শাহ আজহারী মুআল্লিমদের নববী আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। মুফতি রাশেদুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল হামিদ, হাফেজ মোহাম্মদ মোস্তফা, হাফেজ ক্বারী রেজওয়ান আহমেদ ও মাওলানা নিজাম সাঈদসহ আরও অনেকে মর্মস্পর্শী ও বাস্তবমুখী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মোশতাক আহমেদ এবং জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ায়ে হাসানার সম্মানিত সভাপতি ও সমাজসেবক মোঃ খান সাইফুল ইসলাম। শাইখুল হাদিস মুফতি জিহাদুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাপ্তিতে সারাজীবনের দ্বীনি খেদমত, দেশ ও উম্মাহর উন্নতি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়, যা দেশের বরেণ্য আলেমগণ পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ মাপের মুআল্লিম ট্রেনিং ও ইলমী সম্মেলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।