দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী প্রমোদতরী এমভি হুন্ডিয়াসের কয়েকজন যাত্রী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরের পর থেকে বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বাড়েছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত তিন জন নিহত এবং ছয় জনের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার মূল টানাপোড়েন সম্পর্কিত ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন—‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’—মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের লালায়ও ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি-হাঁচি করে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, পরিবারের সদস্যদের তুলনায় যৌন সঙ্গীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় দশ গুণ বেশি হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে রেলিভ্যান্ট জাহাজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখার সময় দুই ডাচ পর্যটক দু’জনকেই ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমণ হয় এবং তারা পরে জাহাজে এসে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। আর্জেন্টিনা থেকে ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা ওই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ আরোহী ছিলেন। পথে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪ এপ্রিল কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ ঐ যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
তবে ডব্লিউএইচও আশ্বস্ত করেছে যে, এই সংকটকে কোভিড-১৯-এর মতো একটি মহামারির সঙ্গে মিলিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেছেন, এমভি হুন্ডিয়াসের সব যাত্রীকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে এসে থাকেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের আরও স্বতন্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার করা উচিত—যেমন বিশেষ পোশাক ও পিপিই।
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, আক্রান্তদের আরও সংখ্য়া বাড়তে পারে এবং কারা কার সংস্পর্শে এসেছে তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে এই ভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে গেলে ছড়ায়; এর ছড়ানোর ধরন কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার থেকে ভিন্ন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এটি প্রধানত একটি জাহাজভিত্তিক প্রাদুর্ভাব, এবং নতুন কোনো বিশ্বব্যাপী কোভিড-শৈলীর মহামারির সূচনাই নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, করোনাভাইরাস কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় অ্যান্ডিস স্ট্রেইন অনেক কম ছড়ায়। জাহাজের মতো সীমিত ও ঘন বসতিবেশে সংক্রমণের হার বাড়ার পেছনে ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধিই নয়, বরং ঘনাকীর্ণ পরিবেশ এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই দায়ী। তাদের বক্তব্য—রোগীদের পৃথক রাখা এবং কোয়ারান্টাইন ও ট্রেসিং প্রয়োগ করলে সংক্রমণ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার গতি মহামারি পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো নয়। জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ নজরদারি ও সংস্পর্শ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশনা জারি করেছে।
