আর মাত্র ৩৩ দিন বাকি থাকলো বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনও টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব সংগ্রহ করেনি। ফলে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটাকে দেখা যে একপ্রকার অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে সত্যি। সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন, স্বত্বের উচ্চমূল্য, সীমিত বিজ্ঞাপন রাজস্ব, এবং বাংলাদেশ সময়ে ম্যাচের সময়সূচির অপ্রাযুক্তিকতা—এসব কারণেই সম্ভবত এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
২০২২ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য ছিল ভিন্ন; তখন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) স্থলভিত্তিক সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছিল। পাশাপাশি ‘টি-স্পোর্টস’ ও ‘জিটিভি স্যাটেলাইট’ সরাসরি সব ম্যাচের সম্প্রচার সম্পন্ন করেছিল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘টফি’ও এই স্বত্ব সংগ্রহ করেছিল। তবে এবারের প্রতিযোগিতার জন্য এখনও কোনও প্রতিষ্ঠান স্বত্ব কিনে নেয়নি।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশের এই অঞ্চলের জন্য সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’। তারা বাংলাদেশি মিডিয়া সংগঠনগুলোর কাছে বিপুল অর্থ দাবি করে এই স্বত্বের জন্য। এর ফলে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার এই দামে স্বত্ব কেনা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগের চুক্তির সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, আর গতবারের ব্যয়ও অনেক বেশি ছিল, তার কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি।’
দ্য ডেইলি স্টার এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিটিভির জন্য এই স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ডলার, যা প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সমান। এতে কর ও ভ্যাট যোগ করলে দাম একপ্রকার ২০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সাথে ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস। তবে বাংলাদেশের বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, এই দামের ভিত্তিতে এই চুক্তি অনেকাংশে ‘অবাস্তব’ বলে মনে করেন প্রাথমিকভাবে আলোচনা করা কিছু সম্প্রচারকারীরা। টি-স্পোর্টস, স্টার নিউজ ও কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কম দামে সম্প্রচার স্বত্ব সংগ্রহের আগ্রহ দেখালেও, স্প্রিংবক দাম কমানোর জন্য রাজি হয়নি।
বিশ্বকাপের সূচীদেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ ৫২টি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগে শেষ হবে, আর অন্য ৫২টি শুরু হবে ভোর ৪টার পরে। এর ফলে, এই সময়ে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ও অনেকটাই কমে যেতে পারে, যা প্রচারকারীদের জন্য ভিন্ন চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, ভারত ও চীনেও এই বিশ্বকাপের সম্প্রচারে একই রকম অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ডিজনি যৌথ উদ্যোগে (জিওস্টার) প্রস্তাব দিয়েছিল প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার, কিন্তু ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছে। চীনেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও সম্প্রচার অংশীদার হয়নি। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে চীন থেকে বৈশ্বিক ডিজিটাল দর্শকদের প্রায় অর্ধেকই দেখেছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিকে (সিসিটিভি) ২৫০-৩০০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব দেয়া হলেও, এই সংস্থার বাজেটের সঙ্গে তুলনা করলে সেটি অনেক বেশি।

