অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ দেশের সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান হবে শতভাগ পেশাদারভিত্তিক—রাজনৈতিক প্রভাব এখানে কাজ করবে না।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে নতুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
অর্থমন্ত্রী বেঠিকভাবে বলেন, বিএসআইসি যেই মূলধন নিয়ে উদ্বোধন করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হবে না, বরং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান ও সমর্থনযোগ্য করে তোলার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো ফান্ডের ঘাটতি এবং জামানত প্রদানের অক্ষমতা। বিএসআইসি–র মাধ্যমে এই দুইটি বাধা দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখানে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার উপায়ে।
আর্থমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগটি তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো’র সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা হবে।
পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে আমরা কঠিন সময় পার করছি; তাই পুঁজিবাজার সংস্কার ও নিয়মের পুনর্বিবেচনা (কিছু ক্ষেত্রে ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’)–এ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থায় দক্ষ উপদেষ্টাদের নিয়োগ করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী যোগ করেন, দেশের ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএসআইসি কেবল ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
সমাপ্তিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। দেশের কয়েকটি ব্যাংক যৌথভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা দেশের স্টার্টআপ ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

