ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে পৃথক আবেদন করেছেন চট্টগ্রামের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং সারোয়ার আলমগীর। এই আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার নথিভুক্ত করে। এক সাথে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য ৯ জুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এই আদেশ দেয়, তার ফলে আপাতত তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না।
১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই দুই প্রার্থী—চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর—নির্বাচনে অংশ নেন। তবে, ঋণখেলাপির অভিযোগে তাদের ফলাফল প্রকাশ ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত করা হয়। তবে জানা গেছে, এ দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন।
আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে, ১৮ জানুয়ারি, বৈধ ঘোষণা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট করে নেয়, যা আদালত খারিজ করে দেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পাশাপাশি, জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দাখিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, বিদ্যমান আপিল মঞ্জুর হয় এবং আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হয়। ফলে, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। তবে, আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন, কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রেও ঋণ খেলাপের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর, জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন।
নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে, ১২ ফেব্রুয়ারি সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে, আদালত আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে, ফলাফল ঘোষণা ও শপথ নেওয়ার জন্য এই দুই প্রার্থী আবেদন করেন।
তারপর, ১৩ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে। তবে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ নম্বর আসনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

