পাকিস্তান ক্রিকেট দল পুনরায় নির্ধারিত পথ থেকে সরে আসছে বলে মনে হয়, কারণ ক্রমাগত ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে তারা এখন প্রায় ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পৌঁছানোর দৌড়ে এগিয়ে গেলেও, পরবর্তীতে তাদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, তারা কিছুই হয়নি। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলায় পাকিস্তান দেওয়ালে পিঁড় হয়ে গেছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ধীরে ধীরে পাকিস্তানের ক্রিকেটের রঙের মতো সব কিছুই ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়ছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার পরিমাণে দেখা যায়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে জেতার পর ১৬ বছর তারা আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। তবে ২০১৫ সাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন বাংলাদেশের সঙ্গেও লড়াইয়ে সমান সমানে তাদের মোকাবেলা করছে পাকিস্তান। মার্চে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর গতকাল মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ তাঁকে ১০৪ রানে হারিয়েছে। এই জয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, নাহিদ রানাদের প্রশংসা করেছেন শেহজাদ। একইসঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার মাসুদ ও রিজওয়ানদেরও সমালোচনা করেন তিনি।
শেহজাদ উল্লেখ করেন, জিম্বাবুয়ে আর বাংলাদেশে পাকিস্তানের ক্রিকেটের অবস্থা কেমন, সেটাও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে পুরো পাঁচ দিন আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে তারা। কখনো জিম্বাবুয়ের কাছে, কখনো বাংলাদেশের কাছে হারতে থাকছে পাকিস্তান। ধুলোয় মিশে যাচ্ছে পাকিস্তানের ক্রিকেট।’
মিরপুরে এই জয়ে বাংলাদেশ এখন তিনটি সংস্করণ—টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে—ই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের কীর্তি গড়েছে। আবার, তারা এই প্রথম টেস্টে হ্যাটট্রিক জিতেছে। এর শুরু হয় ২০২৪ সালে, যখন পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ।
শেহজাদ আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের আধুনিক ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, গত দুই বছরে তাদের কোনও উন্নতি হয়নি। ১০৪ রানে হারের পর তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে বাংলাদেশ যেভাবে আমাদের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করেছিল, সেটা কোনও ফ্লুক ছিল না। তারা বলেছিল, ভাগ্যের জোরে জিতেছে। পরে ওয়ানডে সিরিজেও তারা হারিয়ে দিল। এখন দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের আর কিছু করার ক্ষমতা নেই।’
2022 সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হারলেও পাকিস্তান তবুও ফাইনালে উঠেছিল। সেই বিশ্বকাপে তারা রানার্সআপ হয়েছিল, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে। পরে, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সুপার ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারিয়ে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। একইভাবে, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে সম্ভবত বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও পাকিস্তান দুর্দশার মুখে। শেহজাদ মন্তব্য করেন, ‘ওরা এখনও বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিচ্ছে। এটা যেন একটা অভ্যাস হয়ে গেছে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে নতুন অভিষেকে সেঞ্চুরি করেন আজান আওয়াইস, অন্যদিকে অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল দুটি ইনিংসেই ফিফটি করেন। তবে, অধিনায়ক শান মাসুদ দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ রান করেন, যা দলের জন্য দুঃখজনক। সালমান আলী আঘা ও রিজওয়ান প্রথম ইনিংসে ফিফটি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হন। সহ-অধিনায়ক সৌদ শাকিলও পরাস্ত।
প্রশাসনিকভাবে, এই হার নিয়ে চুপ থাকেননি শেহজাদ। তিনি বলেন, ‘আজান আওয়াইস সেঞ্চুরি করেছেন, আব্দুল্লাহ ফজল ভালো খেলেছেন। কিন্তু অন্য অভিষিক্তরা ভালPerform করলেও রিজওয়ান ও শাকিলের অবদান খুবই কম। তাদের মধ্যে লজ্জা থাকা উচিত, কারণ ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গিয়েছেন? পাকিস্তান ক্রিকেটের অবনতি যেন অব্যাহত রয়েছে। এই হার থেকে শেখা দরকার।’
অপরদিকে, ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তান এগিয়ে ছিল, বাংলাদেশের আর পিছিয়ে। আজকের এই ১০৪ রানের জয়ের পর বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে পৌঁছে গেছে, যেখানে তাদের সফলতার হার ৪৪.৪৪ শতাংশ। এর বিপরীতে, পাকিস্তান দু ধাপ পিছিয়ে সাত নম্বরে নেমে গেছে, সফলতার হার মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ। আগামী ১৬ মে সিলেটে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

