এ অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে বেশ আলোচনা ও গুঞ্জন চলছিল। বিশেষ করে বলা হচ্ছিল, তিনি বয়স কমানোর জন্য ইনজেকশন নিতেন, যা সম্ভবত তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে। তবে এই কথা অনেকদিন গোপন থাকলেও, সম্প্রতি শেফালির স্বামী পরাগ ত্যাগী এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে স্ত্রী শেফালির মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে পরাগ বলেন, এই বিষয়টি ঠিক নয়। তিনি জানান, তারা সব খাবারই গ্রহণ করতেন। শেফালি মারা যাওয়ার আগের দিনও তারা চাইনিজ খান। মানে, তারা না খেলে থাকতে পারেন না, উল্টো বেশ ফিট ছিলেন। তিনি বলেন, ‘বয়স ধরে রাখার জন্য কোনও ইনজেকশনই আমি দেখেছি বা শুনেছি না। যদি কোনও ইনজেকশন সত্যিই থাকত, তাহলে রতন টাটা আজও জীবিত থাকতেন।’ এটি প্রমাণ করে, এই গুজবকে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
পরাগ আরও বলেন, ‘অন্য গুঞ্জন ও অপ্রমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। আমাদের সবাইকেই মিলেমিশে পথ চলতে হবে।’
উল্লেখ্য, শেফালি গত বছর মারা যান। মৃত্যুর দিন তিনি খালি পেটে ছিলেন। জানা গেছে, গেরুয়া পূজার জন্য তিনি ওই দিন সকাল থেকে উপোস করেছিলেন, এরপর শেষের দিকে সামান্য কিছু খেয়েছিলেন। তবে ক্লান্ত শরীরে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাননি। ওই রাতে সাড়ে দশটার দিকে তিনি জ্ঞান হারান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও, কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তিনি মারা যান।
শেফালি শোবিজে ক্যারিয়ার শুরু করেন মডেলিং দিয়ে। তিনি প্রায় ৩৫টির বেশি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। বলিউডে তার প্রথম দিকের প্রবেশ হয় ২০০৪ সালে, ‘মুঝসে শাদি করোগে’ সিনেমায় ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তার বেশ কিছু প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জনও ছিল। ২০০২ সালে তিনি একটি সংসারে জড়িয়ে যান, কিন্তু মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সেই সম্পর্কও শেষ করেন। এরপর ২০১৪ সালে তিনি পরাগ ত্যাগীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুজনে ‘বিগ বস ১৩’-এ একসঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছিলেন, যা তাদের সম্পর্কের জন্য বেশ সুখকর ছিল।

