প্রখ্যাত অভিনেতা, নাট্যকার এবং সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আজ ১২ মে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বিশিষ্ট ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতা-পরবর্তী মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতা পদক এবং একুশে পদক প্রদান করে।
অতীতে তিনি একাধারে একজন সফল অভিনেতা, নাট্যকার, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হন। তার এই মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আটাউর রহমানের মৃত্যুর খবর প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন অভিনেতা সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সূত্রমতে, শুক্রবার বাসার পড়ে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবনতি ঘটে। এরপর তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা জানান, লাইফ সাপোর্টে থাকা প্রয়োজন। পরে তাকে ধানমন্ডির আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় যেখানে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। কিছুদিন পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। তবে, পরে আবার অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে আবার লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
আতাউর রহমানের সন্তান, তার কন্যা শর্মিষ্ঠা রহমান, বলেন, ‘আব্বার অবস্থা খুব ভালো নয়। শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা সেটাই জানিয়েছেন। আমি সকলের কাছে আব্বার জন্য দোয়া চাই।’ শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাগত সব চেষ্টা অসফল হয়ে, তিনি অসুস্থ অবস্থায়ই মারা যান।
প্রখ্যাত এ তারকার মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তার অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় থাকবেন সর্বত্র। তাঁর রুচি, কর্মশক্তি ও অনবদ্য প্রতিভা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে দেশের ইতিহাসে।

