রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শোকের আরেকটিক্ষেত্র। এ জমিনে শিশু হত্যার এই নিন্দনীয় ঘটনার দ্রুততম তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে দেশের আইন ও প্রশাসনের পরিকল্পনা জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আসামীদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। এই নির্দেশনা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে একে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সরকার। আইনমন্ত্রী জানান, এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত শেষ তোলে আনতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে), পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে খাটের নিচ থেকে মাথাবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)।
পুলিশের ধারণা, শিশুটির ওপর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল এবং এর ফলশ্রুতিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়। হত্যার পর, শিশু রামিসার মাথা ও হাত কাটার মাধ্যমে দেহ গোপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীর গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে বলা যেতে পারে, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়নি, তবে এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।”
তদন্তের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের স্ত্রির ভাষ্য অনুযায়ী, জাকির বিকৃত যৌনরুচির ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তার স্ত্রিকেও নির্যাতন করেছেন।
এছাড়া, জানা গেছে যে, রামিসা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করছিল। তবে সম্প্রতি, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে পাশের ফ্ল্যাটে উঠেছিল। রামিসার মা সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, সেই সময় তিনি তার স্যান্ডেল দেখতে পানরত তখন দরজার সামনে। এই সময়ে, ভেতর থেকে হঠাৎ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের ব্যবস্থা করে পালানোর জন্য, জাকিরের স্ত্রী দীর্ঘক্ষণ দরজা না খুললেও, তার পরে দরজা খুলে দেয়ার পরে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মানসিকতার বিবেচনায়, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য স্ত্রীকে সহযোগী হিসেবে দায়ী করা হয়। সরকার ও পুলিশ এই জঘন্য ঘটনাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

