বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে আবারও ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল ব্যতীত) এই শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। এর সঙ্গে পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ বা ওয়াটারমার্কও পরিবর্তন করবে এ উদ্যোগ। নতুন জলছাপে যুক্ত হবে শহীদ আবু সাঈদের ছবি, যিনি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শহীদ। এছাড়াও, বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থান ও নিদর্শন যেমন বঙ্গভবন, জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, মাছ ইলিশ, আম বাগান, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, বান্দরবানের নীলগিরি ও নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরীর ছবি স্থান পাব recetas তথা এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের জলছাপের প্রায় এক ডজন নতুন ডিজাইন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং অতীতে কখনো ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা ছিল, ‘দিস পাসপোর্ট ইস ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিস অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ)। তবে ২০২০ সালে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, এ শব্দবন্ধটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এখন আবার সরকার এই পরিবর্তন পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইতিমধ্যে সম্মতি পেয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেটি সরকার প্রধানের কাছে পাঠানো হবে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূরুল আনোয়ার বলেন, এই উদ্যোগ তাদের হাতে নেই, এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক পাসপোর্টে ইতিমধ্যে এ পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে। সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। গত বছরের ৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি আদেশও জারি করা হয়, তবে কূটনৈতিক পাসপোর্টের বাইরে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এখন এই উদ্যোগ আরও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাসপোর্টের জলছাপের ডি-সাইনও বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে। নতুন ডিজাইনে যোগ হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদের ছবি, যিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকেন। এছাড়াও, বঙ্গভবন, জিআই জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, মাছ ইলিশ, আম বাগান, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, বান্দরবানের নীলগিরি, নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরীর ছবি থাকছে। বর্তমানে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, নৌকা ও অন্যান্য ছবি পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে।
তবে বাদ পড়ছে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি।

