খুলনা: ‘‘সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব—এতে কোনো কড়া আপস নেই’’ বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনও সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত ও সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘‘মৌলিক অধিকার ও নাগরিক পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা’’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন কেসিসি প্রশাসক। সভার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নাগরিক উদ্যোগ, যা ‘‘মানবাধিকার সুরক্ষা ও সহায়তার মাধ্যমে দলিত ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচন ও বিদ্যমান বৈষম্য লাঘব’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাজ করছে।
প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা নাগরিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সহায়ক পদক্ষেপ না নিলে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় সংস্থাগুলোর তথ্যানুসারে বর্তমানে দেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ লক্ষ। সুইপার, ডোম, কানপুরি, ঋষি, কাওরাসহ একশোরও বেশি বিভিন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে তারা দেশের নানা প্রান্তে বসবাস করছে। বহু বছরে এই সম্প্রদায় নিরক্ষরতা, নিপীড়ন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বঞ্চনার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও প্রায় ১৯২টি দলিত পরিবার বসবাস করছে, যারা দারিদ্র্য ও নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার—সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
পরামর্শ সভায় দ্রুত স্থায়ী ও ন্যায্যতামূলক মানসম্পন্ন আবাসন নির্মাণ, স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, স্যানিটেশন উন্নয়ন এবং চাকরিতে নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মতো সুপারিশ গৃহীত হয়।
বক্তারা জানান, দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য সমাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের একটি মৌলিক বিষয়; এটি মোকাবিলায় যথাযথ নীতি, কার্যকর বাস্তবায়ন ও সামাজিক সচেতনতা অত্যাবশ্যক। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি।
বিডিইআরএম’র সহসভাপতি ধীমান হালদারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন নাগরিক উদ্যোগের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর পলাশ হালদার। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, মহানগর হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কুমার লাল এবং সাধারণ সম্পাদক সুনিল ডোম।