সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দ্বারা দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) এবং নিলুফা সুলতানা (৫৬)। এর মধ্যে নিলুফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী। ডিবি জানিয়েছে, এই প্রতারক চক্র নিজেদের কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বা প্রশাসনিক পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে আসছিল। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়, যেখানে অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম এসব বিষয় জানান। তিনি বলেন, ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিএমপি কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগে জানা যায়, হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে এই চক্র সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি কাল্পনিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছেও পদ ও সুবিধা পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিল। এর ভিত্তিতে ডিবির সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আনিসুর রহমান শান্ত নামে একজনকে আটক করা হয়, যিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে আরও এক সদস্য নিলুফা সুলতানার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখা-২ এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়নের কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবি प्रमुख আরো জানান, প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার কথোপকথনের মধ্যে রয়েছে, তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোথায় পদায়ন করলে কত টাকা দিতে হবে, এমন কথাবার্তা। তবে, এখন hiçbir উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সরাসরি জড়িত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তদন্ত চলাকালে যারা জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।

